২৯ বছরেও নিজস্ব ভবন নেই মাধবপুর পৌরসভার
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

২৯ বছরেও নিজস্ব ভবন নেই মাধবপুর পৌরসভার

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০৯/২০২৬ ০১:০১:৩৯ অপরাহ্ন

২৯ বছরেও নিজস্ব ভবন নেই মাধবপুর পৌরসভার


২৯ বছর ধরে কার্যক্রম চলার ধারাবাহিকতায়  মাধবপুর পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হলেও এখনো নির্মিত হয়নি নিজস্ব ভবন। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন উপজেলা পরিষদের একটি ভবনে কার্যক্রম চলার পর বর্তমানে পুরাতন উপজেলা আদালত ভবনের কয়েকটি কক্ষেই চলছে পৌরসভার দাপ্তরিক কাজ। নিজস্ব ভবনের জন্য জমি কেনা, নকশা অনুমোদন ও দরপত্র সম্পন্ন হলেও জমি-সংক্রান্ত  একটি রিটের কারনে কাজ শুরু করা যায়নি দীর্ঘদিন । তবে মাধবপুরের পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান জানান এখন মামলা সংক্রান্ত জটিলতা আর নেই। বরাদ্ধ পাওয়া গেলেই ভবন নির্মান কাজে হাত দেওয়া হবে।১৯৯৭ সালের ২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় মাধবপুর পৌরসভা। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটি ২০১২ সালে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় তিন দশকে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবার পরিধি বেড়েছে। বেড়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দাপ্তরিক কাজের চাপ। কিন্তু সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি পৌরসভার নিজস্ব অবকাঠামো।

নিজস্ব পৌর ভবন নির্মাণে কয়েক দফা উদ্যোগের অংশ হিসাবে ভবন নির্মাণের জন্য জমি কেনার পর নকশা অনুমোদন এবং দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নির্মাণকাজ শুরুর পর্যায়ে জমি নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেয়।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ২২৯২/১৮ দায়ের হওয়ার পর ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমও এগোয়নি।জানা যায়, একসময় পৌরসভার নিজস্ব জমি ছিল না। পরে জমি কেনা হয় এবং সেখানে পৌর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় উপজেলা পরিষদের একটি ভবনে মাধবপুর পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে পুরাতন উপজেলা আদালত ভবনের কয়েকটি কক্ষে চলছে পৌরসভার দাপ্তরিক কাজ। একই ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। সীমিত জায়গায় একাধিক শাখার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় দাপ্তরিক কাজে স্থান সংকট তৈরি হচ্ছে। সেবা নিতে আসা নাগরিকদেরও অপেক্ষা ও চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকছে না।শ্রেণি উন্নীত হলেও অবকাঠামোতে ঘাটতি ২০১২ সালে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর মাধবপুর পৌরসভার দায়িত্ব ও সেবার পরিধি আরও বেড়েছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, পৌর করসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন পৌর কার্যালয়ে আসেন নাগরিকরা।পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নে নিজস্ব ভবন ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হলেও ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী কার্যালয়েই পরিচালিত হচ্ছে।

নাগরিক সেবায়ও রয়েছে নানা সমস্যা মাধবপুর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ড্রেনেজসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার পাশাপাশি নিজস্ব কার্যালয়ের সংকট পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিক সেবা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যাপ্ত কর্মপরিসর, নাগরিকদের অপেক্ষার স্থান, বিভিন্ন শাখার পৃথক কার্যক্রম এবং সেবা প্রদানের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। মাধবপুর পৌরসভায় সেই সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পরও মাধবপুর পৌরসভা নিজস্ব ভবন পায়নি। উপজেলা পরিষদের ভবন থেকে পুরাতন আদালত ভবনে স্থানান্তর হলেও স্থায়ী নিজস্ব কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। পৌরসভার প্রশাসনিক পরিধি ও নাগরিক সেবা বাড়লেও নিজস্ব ভবন নির্মাণের বিষয়টি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ মেহেদী হাসান জানান রিট সংক্রান্ত যে জটিলতা ছিল সেটি নিস্পত্তি হয়ে গেছে। এখন আর ভবন নির্মানে কোনো বাঁধা নেই। ভবন নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া গেলেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

জনস্বার্থে নগরের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: সিসিক প্রশাসক
সিলেটে প্রযুক্তি গ্রামে ৫২ জাতের ধানের প্রদর্শনী, আধুনিক কৃষির নতুন সম্ভাবনা
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন হবে
ভবন নির্মাণে অ/নিয়ম ঠেকাতে মাঠে সিউক
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মাধবপুরে বিদ্যুৎস্পৃ/ষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃ/ত্যু
সিলেট টেস্টে দারুণ শুরু বাংলাদেশের
সিলেটে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার ভা/রতীয় কম্বলসহ আট/ক ২
সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে সংসদ সদস্য মালেকের বিশেষ বৈঠক
বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে ২০৬ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনাধীন: সিসিক প্রশাসক