ছবি:সংগৃহীত
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী করে স্টেডিয়ামটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও দর্শকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিন গ্যালারির আধুনিকায়ন, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড সংস্কার, ফ্লাডলাইট ব্যবস্থার উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম সংস্কার এবং হসপিটালিটি বক্স নির্মাণ ও উন্নয়ন। পাশাপাশি খেলার মাঠের প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্টেডিয়ামে প্রবেশের সড়ক উন্নয়ন, প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকায়নের কাজও করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শক, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারিতে সিলেটে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের সূচি রয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনকে সামনে রেখে স্টেডিয়ামকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শেষ করে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে স্টেডিয়ামটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠায় প্রয়াত বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উন্নয়ন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আরাফাত রহমান কোকো এবং সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বিসিবি পরিচালক বলেন, সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের উদ্যোগ ও অবদানের ফলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের অন্যতম ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করে তাঁদের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে খেলাধুলার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দক্ষ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন সফল করতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম শুধু সিলেটের নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া স্থাপনা। এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের মাধ্যমে সিলেটের পরিচিতি ও মর্যাদা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চাও বিস্তৃত হয়। তাই আগামী দিনে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট মাঠে এসে উপভোগ করতে তিনি সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় বিসিবির সিলেটের কাউন্সিলর আশরাফ আরমান, মৌলভীবাজারের কাউন্সিলর মনোয়ার এম আহমদসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




