জগন্নাথপুর কুশিয়ারার পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

জগন্নাথপুর কুশিয়ারার পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/০৩/২০২৬ ০৬:০৫:০৩ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর কুশিয়ারার পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ, অস্তিত্ব সংকটে নদী

নিজস্ব


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে দিন-রাত মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী রহিম উল্লাহর নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, তীর ভাঙছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি শুকিয়ে চর জেগে উঠলেই শুরু হয় অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টরের মাধ্যমে কয়েক লক্ষাধিক টাকার মাটি নদীর পাড় কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশ ভেঙে যাচ্ছে, কমছে নাব্যতা, ধসছে তীরবর্তী এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদের ভেতর দিয়ে একের পর এক ট্রাক্টর নদীর পাড় কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে এবং আশপাশের বাড়িঘর ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়ছে।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রহিম উল্লাহর নির্দেশেই এই কাজ চলছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। তাদের দাবি, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু লোক টাকা নিয়ে যায় এবং রাজনৈতিক দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা পাহারা দেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, কোনোভাবেই অবৈধ নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এই পাড় দিয়ে বাড়ি, রাস্তাসহ বিভিন্ন ভরাটের ব্যবসা করছে এই চক্রটি। কুশিয়ারা নদীর পাড় থেকে মাটি কাটায় এলাকায় গভীর করে মাটি কাটা উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এর খেসারত দিতে হয় নদীর ধারের জমির মালিকদের। ক্ষতি হয় ফসলি জমির, অনেক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

অভিযুক্ত রহিম উল্লাহ বলেন, আমি সামান্য মাটি নিচ্ছি। এক্সিডেন্ট আমার কিছু করতে পারবে না।

জগন্নাথপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন বলেন, ‘আমি তহশিলদারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

’জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ জানান, যারা অবৈধভাবে নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল বলেন, ‘নদীর পাড় থেকে এক ইঞ্চি মাটিও কাটা যাবে না। আমি এখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’উল্লেখ্য, অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে দেশের সব নদীকে ‘আইনি সত্তা’ (লিগ্যাল এনটিটি) ঘোষণা করা হয়।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসায় অনন্য অবদান রাখছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফর ছিল ঐতিহাসিক: সিসিক প্রশাসক
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে গেলেন মন্ত্রী মুক্তাদির ও সিটি প্রশাসক কাইয়ুম
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বন্ধ কারখানা সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হবে
জৈন্তাপুর মিনি সুইজারল্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাবের টি-১২ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিকরা
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেটে যুবলীগের মিছিল থেকে আ/টক ১২ জন
শাল্লায় পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে ৩ দিন ধরে ভাঙ/চুর, লু/টপাট
জনস্বার্থে নগরের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: সিসিক প্রশাসক