নভেম্বর থেকে জানুয়ারি: দেশে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি: দেশে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/১১/২০২৬ ০৩:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি: দেশে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

সংগৃহীত


আসন্ন শীত মৌসুমে সারাদেশে ধেয়ে আসছে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশজুড়ে মোট ৬টি ছোট-বড় শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করে দেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।চলতি নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের জন্য দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, শীত মৌসুমে দেশে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কুয়াশা, লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে, অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে। সেই সব জায়গায় মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।তবে জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনো কখনো একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানান তিনি। তিন মাসের এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী তিন মাসে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে এর ফলে শীতের তীব্রতা কমবে না। নির্দিষ্ট সময়ে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হবে। বিশেষ করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের অনুভূতি ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।

শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এই তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে লঘুচাপ তৈরি হলেই তা ঘূর্ণিঝড় হবে এমন নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানান, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসবে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে শীতের এই আমেজ এবং ঘন কুয়াশার প্রভাবে জনজীবনে ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহের সময় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই শীতের শুরুতেই সবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: