শহীদ মিনারে জুতা পায়ে বসে রাজনৈতিক সভা, বাগাতিপাড়ায় সমালোচনার ঝড়
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

শহীদ মিনারে জুতা পায়ে বসে রাজনৈতিক সভা, বাগাতিপাড়ায় সমালোচনার ঝড়

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/১১/২০২৬ ০৪:১৬:০৬ অপরাহ্ন

শহীদ মিনারে জুতা পায়ে বসে রাজনৈতিক সভা, বাগাতিপাড়ায় সমালোচনার ঝড়

সংগৃহীত


ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পবিত্র স্থান শহীদ মিনার। অথচ সেই শহীদ মিনারের বেদিতেই চেয়ার পেতে আয়োজন করা হয়েছে রাজনৈতিক সভা। শুধু তাই নয়, জুতা পায়ে শহীদ মিনারের ওপর বসে ছিলেন অতিথিরা। নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিএনপির একটি মতবিনিময় সভার এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করে বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপি।সভাটি ছিল মহিলা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়মূলক। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে শহীদ মিনারের বেদিতে চেয়ার বসিয়ে অতিথিদের আসন গ্রহণের বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের ওপর চেয়ার পেতে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বসা ব্যক্তিদের সবার পায়েই ছিল জুতা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এমন আয়োজনের দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে।

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক সভা করার জন্য কি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অন্য কোনো জায়গা ছিল না? শহীদ মিনারের বেদিকে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন হলো কেন? আর জুতা পায়ে সেখানে বসার মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল?তাদের মতে, শহীদ মিনার কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি বাঙালির আত্মত্যাগ, ভাষার অধিকার ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক। সেখানে এমন আচরণ শুধু অসচেতনতা নয়, ভাষাশহীদদের প্রতি চরম অসম্মানও। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। অথচ যারা সমাজ ও রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন, তাদের এমন অসচেতনতা নতুন করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত উপজেলা মহিলা দলের সদস্যসচিব আইভি আক্তার বলেন, ‘আমি খেয়াল করিনি ওটা শহীদ মিনার। আমি পরে গেছি সেখানে।’সাবেক উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হায়দার আলী সোনার বলেন, ‘আমি খেয়াল করিনি ওটা শহীদ মিনার। পরে বুঝতে পেরেছি।’বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি খেয়াল করিনি। এটা আমাদের ভুলই হয়েছে।’

তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছেন না উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনার শ্রদ্ধার জায়গা। যারা এটা করেছে, তারা মোটেও ঠিক করেনি। এটা ফোরামে আলোচনা করে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: