নির্ধারিত দিনে বাঁধের কাজ শেষ না হলে জেলাব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে ধীরগতিতে উদ্বিগ্ন কৃষকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে হাওর ও কৃষকের সংগঠন ‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলন।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাঁধ নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে বোরো ফসলের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি।
সংবাদ সমম্মেলনে চলমান বাঁধ নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও সরজমিন তথ্য তুলে ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল।
এ সময় জানানো হয়, চলতি বোরো মৌসুমে ফসলের সুরক্ষায় হাওরে ৫৯১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ৭৩৩টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী অর্থবছরের ১৫ ডিসেম্বর বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১ থেকে দেড় মাস পরে কাজ শুরু করা হয় অনেক প্রকল্পে। বিলম্বে পিআইসি গঠন ও সময় মতো কাজ শুরু না করতে পারায় বাঁধ নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি পিছিয়ে যায়। অন্যান্য বছরের মতো এবারো পিআইসি গঠনে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কৃষককে প্রাধান্য না দিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অকৃষকদের নামে পিআইসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অক্ষতবাঁধে পূর্ণ বরাদ্দ, প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ বেশি, অপ্রয়োজনীয় পিআইসি গঠনসহ হাওরের কাজে আসবে না এমন স্থানে প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারে টাকা অপচয়, হাওরের টাকায় গ্রামের রাস্তা, বালিমাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলন, কম্পেশন না করা, পুরাতন বাঁধ কেটে নতুন বাঁধ তৈরিসহ বাঁধের কাজে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী চলতি মাসের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বাঁধের কাজের অগ্রগতি ৬৭ ভাগ উল্লেখ করা হলেও এই তথ্য বাস্তবসম্মত নয় বলে উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা। দায়িত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে যথাযতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাগিদ সংগঠনটির। বাঁধ নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করা, র্নিধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা। নির্ধারিত দিনে বাঁধের কাজ শেষ না হলে জেলাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করে সংগঠনটি।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




