ছবি:সংগৃহীত
পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব বিকাশমান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ অধ্যাদেশ জারি করে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বিচ্ছিন্ন আইন বাতিল করে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের বিকাশমান তামাকপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে যেকোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।
নতুন আইনে ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনের পাশাপাশি ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, হাসপাতাল, ক্লিনিক, আদালত, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিপণীবিতান, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল, শিশুপার্ক, মেলা ও যাত্রীদের অপেক্ষার সারিসহ জনসাধারণের ব্যবহার্য সব স্থানকে পাবলিক প্লেস হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব ভবনের বারান্দা, প্রবেশ ও বহির্গমন গেট এবং আশপাশের উন্মুক্ত স্থানও এর আওতাভুক্ত থাকবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানসহ যেকোনো তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন, বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও অন্যান্য বিকাশমান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া এসব পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




