বাঁধ ভেঙে এবার ডুবল বোয়ালা হাওরের ফসল
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:১০ PM

বাঁধ ভেঙে এবার ডুবল বোয়ালা হাওরের ফসল

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/০৫/২০২৬ ০৫:৪৪:৫৪ PM

বাঁধ ভেঙে এবার ডুবল বোয়ালা হাওরের ফসল

সংগৃহিত


সুনামগঞ্জের হাওরে একের পর এক ভাঙছে ফসলরক্ষা বাঁধ তাতে দিন দিন তীব্র হচ্ছে হাওরবাসীর সংকট। শনিবার (২ মে) দুপুরে বাঁধ ভেঙে মধ্যনগরের বোয়ালা হাওরের ফসল ডুবে গেছে। হাওরে এখন কৃষকেরা ডুবে যাওয়া ধান কাটা ও বাঁধ রক্ষা নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছেন। বৃষ্টি, বজ্রপাত আর বন্যার নতুন সর্তকতা সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে কৃষকদের অনেকেই আশা ছেড়ে কেবল হা হুতাশ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোর থেকে বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে ও মধ্যনগরে। তাতে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের কালভার্টের সামনের পাউবোর দওয়া বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। সকালে যারা এ হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন তাদের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

আশপাশের কৃষক ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ভাঙনের তীব্রতা ঠেকাতে পারেননি। স্থানীয় কৃষকরা বাঁধের এই ভাঙনের জন্য পাউবো ও তাদের নিয়োজিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসির) লোকজনকে দোষারোপ করেছেন। পানির প্রবল বেগ দেখে আশা ছেড়ে দিয়েছেন শত শত কৃষক।

উপস্থিত কৃষক ও কৃষাণিরা বলেছেন, বাঁধের কাজে অবহেলা ছিল। কালভার্টের মুখের এই বাঁধে আড়-প্যালাসেটিং দেয়া ছিল না। 

মধ্যনগর গ্রামের কৃষক মুরাদ মিয়া বলেন, আমার ১৭ কেয়ার জমি কাটা বাকি ছিল। শনিবার সকালে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে হাওরে গিয়েছিলেন| এসময় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ফসল।

মধ্যনগর ইউনিয়ন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেছেন, হাওরে ২০ হেক্টরের মতো জমির ধান কাটা হয়নি। এগুলো ডুবে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছেন, হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় বাঁধও ভেঙেছে। এজন্য বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়নি। এর আগে শুক্রবার বাঁধ ভেঙে এ উপজেলার শালদিঘা হাওরে পানি ঢুকছিল। দিনভর চেষ্টার পর ভাঙনের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ আটকানো হয়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় উজানের পাহাড়ি ঢল কম থাকায় সুরমা নদীর পানি তিন সেন্টিমিটার কমেছে। তবে হাওরে এখনো পানি থাকায় ধান কাটায় ভোগান্তি কাটেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধান শুকানোর সমস্যা। রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান অনেক জায়গায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: