যাত্রীদের সচেতনতায় র/ক্ষা পেল শিশু, ফিরল পরিবারের কাছে
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

যাত্রীদের সচেতনতায় র/ক্ষা পেল শিশু, ফিরল পরিবারের কাছে

মহি উদ্দিন, কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/০৮/২০২৬ ১০:৪৭:০৩ অপরাহ্ন

যাত্রীদের সচেতনতায় র/ক্ষা পেল শিশু, ফিরল পরিবারের কাছে

ছবি:সংগৃহীত


ট্রেনে থাকা কয়েকজন সচেতন যাত্রীর তৎপরতা ও মানবিক উদ্যোগে সম্ভাব্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়ে সিলেটে পৌঁছানো ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে অজ্ঞাত এক নারীর সঙ্গে ঢাকাগামী ট্রেন থেকে উদ্ধার করে যাত্রীরা রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার সমন্বিত উদ্যোগে শিশুটিকে নিরাপদে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট সোহাগ চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে আসে। পরে ২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিষয়টি ট্রেনে থাকা কয়েকজন সচেতন যাত্রীর সন্দেহ হলে তারা শিশুটিকে ওই নারীর কাছ থেকে উদ্ধার করে কুলাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কুলাউড়া রেলওয়ে থানার এসআই অমর চন্দ্র বিশ্বাস শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার স্বজনদের পরিচয় সংগ্রহ করেন। পরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটির পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার পর কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে বিষয়টি জানানো হলে শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম রেলওয়ে থানায় গিয়ে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিশুটিকে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো সমস্যায় পড়লে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরে শিশুটির খালা আকলিমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের কর্তব্যরত টিজি পার্টির কনস্টেবল রাশেদুল রানার জিম্মায় শিশুটিকে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি শিশুটিকে তার খালা আকলিমা ও খালু আরিফের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনায় কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, তার বাবা আব্দুল করিম মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মা টুনি বেগম মারা গেছেন। বর্তমানে সে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মহুরীপাড়া এলাকার মানিক জমিদার কলোনিতে খালা আকলিমা ও খালু আরিফের সঙ্গে বসবাস করছিল।

কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম বলেন, ‘ট্রেনের সচেতন যাত্রী, কুলাউড়া ও ডবলমুরিং রেলওয়ে পুলিশ এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বিত ও মানবিক উদ্যোগের ফলে শিশুটি নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে পেরেছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ