১৫ সেনা কর্মকর্তাকে রাখা হবে সাবজেলে
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:৫০ AM

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে রাখা হবে সাবজেলে

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৫ ১২:৩৩:৪৯ PM

১৫ সেনা কর্মকর্তাকে রাখা হবে সাবজেলে

ছবি : সংগৃহীত


আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-অপহরণ, নির্যাতন, খুন ও জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় কারাগারে পাঠানো ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত সাবজেলে রাখা হবে। আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সেনা কর্মকর্তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বুধবার সকালে সেনা হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর তিনি এ কথা বলেন।

সারোয়ার বলেন, ‘৮ অক্টোবর তিনটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে তিনটি আদেশ হয়েছে। সেই তিনটি মামলায় সাবেক-বর্তমান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর এসব কর্মকর্তাকে অ্যাটাচ (হেফাজতে নেওয়া) করে সেনা কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ সেনা সদরের হেফাজতে রাখা হয়। আজ ওই তিনটি মামলার নির্ধারিত তারিখ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এই তারিখে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন তারা। আমরা তিনটি আবেদন করেছি। এর মধ্যে জামিন আবেদন ২০ নভেম্বর শুনানি হবে। এছাড়া প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন ও তাদের যেন সাব জেলে রাখা হয়।’ 

ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় স্থাপিত সাবজেল নিয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘এ ব্যাপারটি জেল কর্তৃপক্ষ দেখবেন। এখন তাদের সেনানিবাসে যে সাব জেল (উপ কারাগার) ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টেকনিক্যালি প্রসিকিউশন বলেছে গ্রেপ্তার। তবে আমরা বলি আত্মসমর্পণ। কারণ তারা আজ সকালে স্বেচ্ছায় এখানে এসেছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য তাদের একটা গাড়িতে আনা হয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধার কারণে এই সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে। তারা প্রকৃতপক্ষে আত্মসমর্পণ করেছেন।’ 

কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে এই সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে থাকা কারা কর্তৃপক্ষের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। পরে সবুজ রঙের প্রিজন ভ্যানটি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে। 

১৫ সেনা কর্মকর্তা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

গুম-অপহরণ, নির্যাতন, খুন ও জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় এ ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার সকালে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুমের দুই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা এবং দুটি গুমের মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বুধবার সকাল ৮টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর তিন মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপর শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সকাল সোয়া ৭টায় কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে ১৫ জনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সাড়ে ৭টায় প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় ট্রাইব্যুনালসহ হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায়। সেখানে পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি-সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও দেখা গেছে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা এবং দুটি গুমের মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন ২৫ বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন। এই তিন মামলার ৩২ জন অভিযুক্তের মধ্যে আছেন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালক।

৮ অক্টোবর অভিযোগপত্র গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেন।বং পরোয়ানা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন পুলিশ মহাপরিদর্শককে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও পরোয়ানার অনুলিপি পাঠানো হয়। বুধবার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

জৈন্তা বার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

সিলেট থেকে হজ্জ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ৭ তলা ভবন পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু
হা*ম ও হা*মের উপসর্গে সিলেটসহ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃ*ত্যু
৪ মে প্রথম হজ ফ্লাইট, সিলেট থেকে ৭টি সরাসরি
দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক-পিকআপ সংঘ*র্ষে নি*হত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত
সিলেটে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছি*নতাইকারী চ*ক্রের ১০ সদস্য গ্রে*ফতার
দক্ষিণ সুরমায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সং-ঘর্ষ, নি-হত ৮
আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে সংস্কার শেষ না হতেই ফা-টল
গোয়াইনঘাটে ঝুলে আছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন লালটিকির ব্রিজ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর