ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জিদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ–অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল দেশের রাজনীতিতে নতুন স্থিতিশীলতার পথ খুলে দিতে পারে।
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন-এমন জোরালো আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। নিচে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো-
সংস্কার
দলটি ‘জুলাই সনদ’-এর সব দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় নতুন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিস্তৃত সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
বাণিজ্য ও শিল্প
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা এবং রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বৈধভাবে পরিচালিত বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে নির্ধারিত লভ্যাংশ ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে নিতে পারে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যসূচকভিত্তিক ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া তরুণদের কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
অর্থনীতি
আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু, আঞ্চলিক ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠা এবং ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় মাসিক সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য
সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন
শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু এবং দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বিএনপির ইশতেহারে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




