টাঙ্গুয়ার হাওরে কমেছে অতিথি পাখি
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গুয়ার হাওরে কমেছে অতিথি পাখি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০১/২০২৪ ০১:১৪:০০ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গুয়ার হাওরে কমেছে অতিথি পাখি


দেশের বিখ্যাত জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে এবার অতিথি পাখি কম এসেছে। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে সূদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একসময় বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরে লাখো অতিথি পাখি আসতো। এখন সেই অবস্থা আর নেই। প্রতিবছরই কমছে অতিথি পাখির আগমন। এবার একেবারেই কম পাখি এসেছে জানিয়েছেন হাওরপারের বাসিন্দারা। মৌসুমের শুরুতেই শিকারীদের অত্যাচার ও খাদ্যের অভাবে টাঙ্গুয়া বিমূখ হয়েছে অতিথি পাখির দল বলে মনে করেন হাওরপারের বাসিন্দারা।

সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরের টাঙ্গুয়ার হাওর ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের চারটি ইউনিয়নের ১৮ মৌজার ১২ হাজার ৬৫৫ এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। ছোট বড় মিলিয়ে ওখানে বিল আছে ১০৯ টি। প্রধান বিল ৫৪ টি।

হাওরে ছয় কুড়ি বিল নয় কুড়ি কান্দা রয়েছে। এরমধ্যে বেরবেরিয়া, তেকোনিয়া, হাতিরগাদা, মইষেরগাদা, লেচুয়ামারা, রৌয়া, রূপা বৈয়ে শীতের মৌসুমে এক সময় ঝাকে ঝাকে পাখি এসে অবস্থান নিতো।

আন্ত:র্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০১১ সালের এক জরিপে টাঙ্গুয়ার হাওরে ৬৪ হাজার পাখির অস্তিত্ব দেখিয়েছে। এতে ৮৬ জাতের দেশীয় এবং ৮৩ জাতের বিদেশি পাখির কথা উল্লেখ করা হয়।

বার্ডস ক্লাবের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মী সাজেদা আহমেদ বললেন, 'গত কয়েক বছরে হাওরে পাখির সংখ্যা কমেছে ৮৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে প্রায় দুই লাখ অতিথি পাখি এখানে এসেছিল, কিন্তু ২০২২ সালে তা কমে গিয়ে ৩০ হাজারে দাঁড়ায়। ২০০২ সাল পর্যন্ত এখানে পাঁচ লাখ অতিথি পাখি আসার  রেকর্ডও রয়েছে বলে জানান তিনি।

হাওরপাড়ের ভবানিপুর গ্রামের সমীরণ তালুকদার বললেন, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, হিমালয়, উত্তোর এশিয়া, নেপালসহ পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে থেকে অতিথি পাখিরা দেশের বৃহৎ জলমহাল টাঙ্গুয়ার হাওরে আসতো। এসব পাখির মধ্যে লেঞ্জা, পাতিহাঁস, বুটিহাঁস, বৈকাল, নীলশির, পানকৌড়ি, পাতারি, দলপিপি, রাঙ্গামুড়ি, পান্তামুখী পাখি মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে থাকতো। পাখির দল হাওরপাড়ের গ্রামের উপর দিয়ে গেলে মনো হতো ঝড় আসছে। পাখা—ঝাপটার শব্দে ঘুম ভেঙে যেত। এখন সেটি নেই

তিনি বললেন, পাখিরা এখন অনিরাপদ মনে করছে এই এলাকাকে। দুই তিন বছর আগে পর্যন্ত ফাঁদ পেতে পাখি মারা হতো। এখন সেই অত্যাচারের মাত্রা আরও নির্মম হয়েছে। গভীর রাতে হাই ভোল্টেজের টর্চ লাইট নিয়ে নামছে শত শত নৌকা। এরা পাথির দল লক্ষ্য করে কাছাকাছি গিয়ে হাই ভোল্টেজের টর্চ লাইট জ¦ালায়। পাখিরা তখন দিশেহারা হয়ে লাইটের দিকে আসতে থাকে। পরে কোচ (বিশেষ যন্ত্র) দিয়ে পাখি মারে শিকারীরা। এভাবে শিকারের সময় যেসব পাখি আহত হয়ে ফিরে, এরা অন্য পাখিকে বিপদের এই ম্যাসেজ তাদের মত করে জানিয়ে দেয়। একারণে পাখিরা এই হাওরকে এখন ভয় পায়। শিকার করা এসব পাখি রাতেই মোহনগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। 

টাঙ্গুয়ারপাড়ের জয়পুরের গণমাধ্যম কর্মী আহমদ কবির বললেন, খাবারের সঙ্গে অর্থাৎ শামুখ—ঝিনুকের সঙ্গে বিষ মিশিয়েও পাখি মারা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পর বিষ মিশিয়ে পাখির অভয়াশ্রমে ছিটানো হয়। রাতে পাখি এসে বিলে নেমে বিষ মেশানো খাবার খেয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শেষ রাতে শিকারীরা তাড়া করে পাখিদের। নিস্তেজ পাখিরা ওইসময় উড়াল দিতে পারে না। শিকারীরা এদের ধরে নিয়ে যায়। কয়েকদিন আগে হাওরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনই একজন পাখি শিকারিকে তিন চারটি পাখিসহ আটক করে এক পর্যায়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি এলাকার অনেকেই জানে বলে জানান এই গণমাধ্যম কর্মী।

হাওরপাড়ের স্কুল শিক্ষক হাদিউজ্জামান বললেন, হাওরে পাখির খাদ্যেরও অভাব দেখা দিয়েছে। ঝাউ—পাতুরি. ছোটমাছ, শামুক—ঝিনুক কিছুই এখন পানীর নীচে নেই। চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে এসব কিছুর সর্বনাশ ঘটানো হয়েছে গত কয়েক বছরে। হাওরকে দিনের বেলা কিছুটা শাসনের মধ্যে রাখলেও, রাতে হাওরে নামে শত শত জেলে ও পাখি শিকারীর নৌকা। এদের অত্যাচারে ভয়ে এই জলমহাল ছেড়েছে অতিথি পাখিরা।

হাওরপারের একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বললেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের আশপাশের জলমহালের ইজারাদার পক্ষও পাখি মারতে উৎসাহিত করে শিকারীদের। তাদের জলমহালের খলাঘরেও পাখি শিকারীরা রাত্রি যাপন করে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবার চেষ্টা করবো। টাঙ্গুয়ার হাওরে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্টদের নিবিরভাবে হাওর তদারক করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

জৈন্তাবার্তা/এমকে



শীর্ষ সংবাদ:

জিয়াউর রহমানের আদর্শে ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
‘সিলেট জেলা প্রেসক্লাব-জৈন্তাবার্তা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’ শুরু রবিবার
৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘ/র্ষ, আহ/ত অন্তত ৫
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে ব/লা/ৎকারের অভিযোগ ইমামের বিরুদ্ধে
সিলেট সীমান্তে ভা/রতীয় পণ্য ও ম/দসহ ১৬ লাখ টাকার মা/লামাল জ/ব্দ
জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: সিসিক প্রশাসক
সিলেট টেস্ট: হৃদয়ের সেঞ্চুরির পরেও মহাবিপদে বাংলাদেশ
ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসায় অনন্য অবদান রাখছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী