হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে কোন জবাবদিহিতা নেই। গেল প্রায় দেড় বছর হয় জেলার পাঁচটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি একেবারেই কমে গেছে। এ কারণে মাধ্যমিক শিক্ষায় বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পদ আছে ৬ টি। এগুলো হচ্ছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহকারী বা ডাটা এন্টি অপারেটর, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তা কর্মী বা প্রহরী।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই গেল বছরের ১৯ অক্টোবর থেকে। জগন্নাথপুরে নেই ২০ অক্টোবর থেকে। বিশ্বম্ভরপুরে ২০২১ সালের ১১ মার্চ থেকে এই পদ শূন্য। জামালগঞ্জে ২০২২ সালের পহেলা আগস্ট থেকে শূন্য। শাল্লায় নেই ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে। এই উপজেলাগুলোয় সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শূন্য।
শাল্লার একটি পুরাতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বললেন, তদারকি বলতে কিছুই নেই আমাদের। কোন কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে একদিনও স্কুলে আসেন না। অন্যান্য শিক্ষকও যখন ইচ্ছে আসেন, যান। শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি কাজ থাকলে জেলা সদরে গিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে যেতে হয়।’
উপজেলার গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ মোহন চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, অ্যাকাডেমির সুপার ভাইজার একজন আছেন তিনি মাঝে মধ্যে স্কুলে এসে নয়া পরিপত্র অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কী না তদারক করেন। তবে তদারকি কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেন তিনিও। একইসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ থাকলে জেলায় গিয়ে সারতে হয় বলে জানান তিনি।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চক্রবর্তী বললেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় তদারকি একেবারেই কমে গেছে। নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও সমস্যা হয়। নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করতে হলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকা জরুরি মন্তব্য করে এই প্রধান শিক্ষক বললেন, বিদ্যালয়ে কোন নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভোগান্তি হয়।
বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের জেলা সভাপতি মোদাচ্ছের আলম সুবল বললেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভাচুর্য়াল সভায় এই সমস্যার কথা জানিয়েছি আমি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যেখানে নেই, সেখানে নতুন কারিকুলাম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা এই তদারকি হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বললেন, প্রাথমিক শিক্ষায় যেভাবে তদারকি আছে, মাধ্যমিক শিক্ষায় সেভাবে নেই। অথচ. মাধ্যমিক শিক্ষাতে আরও বেশি তদারকি জরুরি ছিল। তদারককারীই যেখানে নেই সেখানে তদারকি কীভাবে। এটি আসলে দুঃখজনক। তাতে এসএসসিতে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অবশ্য দাবি করেছেন, যেখানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই, সেখানকার অফিসিয়াল কাজকর্ম তিনিই দেখভাল করছেন। তদারকির বিষয়টি দেখভাল করছেন একটি বিশেষ প্রকল্প থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মচারী জানালেন, অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজারও নেই বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। এছাড়া অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজারদের পদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় না দেওয়ায় তাদের চাকুরি স্থায়ী হয়নি। শিক্ষকরা তাদেরকে গুরুত্ব দেন না।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




