সুনামগঞ্জে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ২০ শতাংশ কাজও হয়নি
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ২০ শতাংশ কাজও হয়নি

মনোয়ার চৌধুরী

প্রকাশিত: ০৬/০২/২০২৪ ০১:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ২০ শতাংশ কাজও হয়নি

ছবি : নিজস্ব


হাওর-অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলায় প্রবল বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেখা দেয় অকাল বন্যা। মার্চ মাসের দিকে শুরু হওয়া এই বন্যার পানি জেলার হাওরের কৃষকদের বোরো ধান ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ফলে ধান রক্ষা করতে প্রতি বছর সুনামগঞ্জ জেলায় সরকারিভাবে হাওরে নির্মাণ করা হয় ফসলরক্ষা বাঁধ।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের বাঁধ নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ করার কথা। তবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্ধোধন হওয়ার দের মাস পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি বাঁধের কাজ। কিন্তু জেলার বেশির ভাগ হাওরের চাষাবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চাষাবাদ শেষ হলেও বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় ফসলহানির আশঙ্কায় কৃষকরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো ফসলের সুরক্ষার জন্য ৭৩৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো জেলায় ১১৮ টি বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হবে। যার মধ্যে ৭৩৪টি অংশে ৫৯১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ফসল রক্ষা বাঁধ ঘুরে স্থানীয় কৃষক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে এখন পর্যন্ত কেবল ১৫ থেকে ২০ ভাগ কাজ হয়েছে। তাদের অভিযোগ এখনও জেলার অনেক বাঁধে মাটির কাজই শুরু করেনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সঠিক সময়ে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হলে ভারতের পাহাড়ি ঢলে বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, হাওরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বাঁধের কাজে ঢিলেমি লক্ষ্য করা গেছে। জেলার ১৫৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের মধ্যে এখনও অর্ধেকের কাজ শুরু করা হয়নি। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন,ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে শুরু হয় এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৪২ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জেলা কমিটির সাংগনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শহীদনূর আহমেদ বলেন, আমরা হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনটি প্রথম থেকেই জুড় দাবি জানিয়ে এসেছি, যে কৃষকের ধান রক্ষায় যেনো বাঁধের কাজ সময় মত শুরু করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দের মাস পরেও অনেক বাঁধের কাজ শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। 

এসময় তিনি বাঁধের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, এক দের মাস পরে অনেক বাঁধের কাজ শুরু করতে তো করেছেই এরমধ্যে কাজের ধীরগতি। এছাড়া যেসব বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত কম সেই গুলোতে বরাদ্দ বেশি করেছে। পাশাপাশি যে সব মজবুত বাঁধ রয়েছে যেগুলোর উপরের মাটি কেটে আবার ওই বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। এই পর্যন্ত পুরো জেলার প্রায় সাড়ে ৩শ বাঁধ পরিদর্শন করেছি। এই সাড়ে তিনশ বাঁধের কাজের কোনো ভালো দিক দেখছি না। আমাদের জরিপ অনুযায়ী দীর্ঘ দের মাসে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কাজ হয়েছে।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সবচেয়ে বড় হচ্ছে চাপতির হাওর। গত ২০২২ সালে এই হাওরে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল আবাদ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু সে বছরের ৬ এপ্রিল রাতে এই চাপতির হাওরের বৈশাখী এলাকার ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙে হাওরে ঢলের পানি ঢুকে ফসলহানি ঘটেছিলো। সেই ভয়াবহ রাতের কথা এখনো ভুলতে পারেন নি কৃষক হানিফ মিয়া। এবার বিলম্বে কাজ শুরু হওয়ার পরও কাজের ধীরগতিতে কৃষক হানিফ মিয়া উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, ধান করি, ফসল যদি ভালো হয়ে তা বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু এবার বেড়িবাঁধের কাজ এখনও অর্ধেক হয়নি। অন্যান্য বছর তো এই সময়ে কাজ প্রায় শেষ হয়ে যায়। আমাদের সারা দিরাই উপজেলায় আপনি ঘুরে দেখেন, অনেক বাঁধে মাটিই ফেলছে না। মেঘ তুফানের দিন আসার আগেই যদি বাঁধের কাজ শেষ হয়না, তাহলে ২০১৭-২০২২ সালের মত আমরা কৃষকরা ফসল হারিয়ে অসহায় হয়ে যাবো।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, এই বাঁধ গুলোর কাজ আরও দের মাস আগে শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মাঘ মাস চলে যাচ্ছে তাও আজকে পর্যন্ত বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। আর মাত্র হাতে গুনা কয়দিন আছে, এর মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষায় স্যাররা কোন দিন কাজ শুরু করবেন আর শেষ করবেন এটাই তারাই ভালো জানেন। আমরা কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের কি।

মাটিয়ান হাওরের আরেক কৃষক শকংর কুমার বলেন, আমরা বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ করেছি কিন্তু এখন বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। সরকার বাঁধের জন্য টাকা দিয়েছে ,কিন্তু দের মাস চলে গেছে এখনো বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি। কবে বাঁধ নির্মাণ করবে তা নিয়ে চিন্তিত আছি। অতিদ্রুত হাওরের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

অনিয়ম করার উদ্দেশ্যে ধীরগতিতে কাজ করা হচ্ছে অভিযোগ জানিয়ে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, সুনামগঞ্জে প্রতিবছর দেখি হাওরের কৃষকের কষ্টে ফলানো ধান বাঁধ নির্মাণে গাফলাতির ফলে পাহাড়ি ঢলের কারণে ভেসে যায়। প্রতি বছর কেন হাওরের বাঁধের কাজে অনিয়ম করা হয়?নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ কেনো শেষ হয় না। প্রতি বছরে কৃষকের কান্না দেখেও কি কর্তৃপক্ষের মনে দরদ জন্মায় না। এবারও বিলম্বে কাজ শুরু হওয়ায় বাঁধ টেকসই হবে না। এবং এবছর নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে আগাম বন্যায় ফসলের ক্ষতি হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

হাওরে পানি ও মাটির অভাবে বাঁধের কাজ সময়মতো শুরু করা সম্ভব হয়নি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন হাওরে পানি থাকায় বাঁধের কাজে কিছুটা ধীরগতি। সেই পানিটা শুকাতে শুকাতে অনেক সময় লেগে যায়। মূলত হাওরে পানি থাকায় আমরা বাঁধের কাজ শুরু করতে পারি নি। এছাড়া অনেক জায়গায় দেখা যায় মাটিই পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, জেলার ১৫৯টি ক্লোজারের মধ্যে এখন পর্যন্ত আমরা ১৫৬টি ক্লোজারের কাজ শুরু করেছি। আমাদের কাজের অগ্রগতি ৪২ শতাংশ। আমরা আশা করছি ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের মধ্যেই জেলার সকল ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করতে পারবো।

এম সি



শীর্ষ সংবাদ:

জিয়াউর রহমানের আদর্শে ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
‘সিলেট জেলা প্রেসক্লাব-জৈন্তাবার্তা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’ শুরু রবিবার
৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘ/র্ষ, আহ/ত অন্তত ৫
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে ব/লা/ৎকারের অভিযোগ ইমামের বিরুদ্ধে
সিলেট সীমান্তে ভা/রতীয় পণ্য ও ম/দসহ ১৬ লাখ টাকার মা/লামাল জ/ব্দ
জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: সিসিক প্রশাসক
সিলেট টেস্ট: হৃদয়ের সেঞ্চুরির পরেও মহাবিপদে বাংলাদেশ
ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসায় অনন্য অবদান রাখছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী