প্রতীকী ছবি
২০২৫ সালের জুলাই মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৫৩৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এ সব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭ জন। সংস্থাটির সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১৭টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং মৃত্যু হয়েছে গড়ে ১৯ জনের বেশি মানুষের।
প্রতিবেদনটি সোমবার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
দুর্ঘটনার ধরন নিয়ে সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখোমুখি সংঘর্ষ: ১৯৯টি (৩৭.২৬%) দুর্ঘটনা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়া: ১৬০টি (২৯.৯৬%) দুর্ঘটনা, পথচারীকে চাপা দেওয়া: ৯৭টি (১৮.১৬%) দুর্ঘটনা, পেছন থেকে ধাক্কা: ৪৩টি (৮.০৫%) দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণ হিসেবে সড়কের ত্রুটি, ওভারটেকিং’কেও দায়ী মনে করছে সংগঠনটি।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ১৪২টি দুর্ঘটনায় ১৫৪ জন নিহত ও ২৭৩ জন আহত, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১০টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত ও ২১৫ জন আহত, রাজশাহী বিভাগে ৭৯টি দুর্ঘটনায় ৮৭ জন নিহত ও ১৪৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৪ জন, শিশু ৬৮ জন, চালক ও সহকারী ৫৯ জন, শিক্ষার্থী ৪৮ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ হলো, অতিরিক্ত গতি, চালকের অবহেলা বা অনভিজ্ঞতা, ক্লান্তি ও ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, সড়কের ত্রুটি ও অবকাঠামোগত সমস্যা, অবৈধভাবে থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেলের মহাসড়কে চলাচল, ট্রাফিক আইনের শিথিল প্রয়োগ, পরিবহন খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি।
সংস্থার মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “যানবাহনের বেপরোয়া গতি, আইন অমান্য এবং নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতা মিলিয়ে সড়ক যেন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে, কিন্তু বড় কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে এনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্সিং ও পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া এ পরিস্থিতি বদলাবে না।”
সংগঠন দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতিবেদনটিতে কয়েকটি সুপারিশও দিয়েছে। সেগুলো হলো ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবহনখাত, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড মনিটরিং ডিভাইস স্থাপন, চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




