হবিগঞ্জের হাওরে ধান নষ্ট, চরম সংকটে কৃষক
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৫০ PM

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল

হবিগঞ্জের হাওরে ধান নষ্ট, চরম সংকটে কৃষক

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪/০৫/২০২৬ ০৮:৪০:০০ PM

হবিগঞ্জের হাওরে ধান নষ্ট, চরম সংকটে কৃষক

সংগৃহিত


টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। জমিতে কেটে রাখা ধানের স্তূপ পানিতে ভিজে পচে যাচ্ছে, অন্যদিকে মাড়াই করা ধানও শুকাতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে আবারও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বেলা ২টা পর্যন্ত ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে পড়েছে। এতে আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার বৃহত্তম গুংগিয়াজুরী হাওরও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি উপজেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ বোরো ধানের জমি বর্তমানে পানিতে ডুবে গেছে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বানিয়াচং উপজেলার শতমুখা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকেরা ডুবে থাকা জমি থেকে ধান কেটে উঁচু স্থানে জড়ো করছেন। কিন্তু টানা মেঘলা আবহাওয়ায় রোদ না থাকায় সেই ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে পচন ধরছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কষ্ট করে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে। কেউ কেউ জানান, বৃষ্টিতে ধানের দানা কালচে হয়ে গেছে, যা বাজারে বিক্রি করাও কঠিন হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, শুধু মাঠে থাকা ধানই নয়, কেটে আনা ও মাড়াই করা ধানও রক্ষা করা যাচ্ছে না। মাঠে রাখলে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, আর উঁচু স্থানে রাখলেও টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে।

এ অবস্থায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি থেকে যতটুকু সম্ভব ধান উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত পরিবারের খাবারের সংস্থান হয়।

হাওরাঞ্চলের কৃষকরা দ্রুত বৃষ্টি কমে রোদ ওঠার অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ