কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জীবন ফকির।
প্রধান অতিথি মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি হ্রাস এবং পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বিকাশ জরুরি।
তিনি বলেন, কৃষকদের শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিলেই হবে না; নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও বাজারজাতকরণ উপযোগী ফসল উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, নারী কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সহনশীল জাতের ফসল চাষ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি চর্চার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল, চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ খান, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ফয়সল চৌধুরী, আব্দুল বাসিদ বদু মিয়া, ফজলুর রহমান বুলেট এবং কৃষি উদ্যোক্তা মোত্তাকিন চৌধুরী।
কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন কৃষক-কৃষাণী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




