ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক কলোনির একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার সম্পদ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা আক্তার অভিযোগ করেছেন, তার পাঠানো অর্থে জমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তিনি নিজের নামে থাকা ওই বাড়িতে উঠতে পারছেন না। এ ঘটনায় তিনি বড় বোন রংমালা ও ভগ্নিপতি তৈয়বুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
সাজেদা আক্তারের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন মেক্সিকোতে বসবাস করেছেন। তার স্বামী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। নিঃসন্তান হওয়ায় বড় বোন রংমালা ও ভগ্নিপতির ওপর তিনি দীর্ঘদিন আস্থা রেখেছিলেন বলে জানান।
সাজেদার অভিযোগ, প্রবাসে থাকাকালে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে তিনি দেশে টাকা পাঠান। ওই অর্থ দিয়ে জামালগঞ্জের নতুনপাড়া এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক কলোনিতে ৬ শতাংশ জমি কেনা হয় এবং সেখানে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, বাড়ির জমির দলিল, নামজারি ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তার নামেই রয়েছে।
তবে সাজেদার অভিযোগ, দেশে ফেরার পর প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ওই বাড়িতে বসবাসের চেষ্টা করলেও তাকে সেখানে উঠতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই বাড়িতে তার বড় বোন রংমালা, ভগ্নিপতি তৈয়বুর রহমান ও তাদের সন্তানরা বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে সমাধানের জন্য তিনি একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে চেষ্টা করেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে তিনি জামালগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে সাজেদা উল্লেখ করেন, বিদেশে থাকাকালে পাঠানো অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, জমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন সম্পদের হিসাব তিনি পাচ্ছেন না। তার দাবি, এসব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদের বিষয়ে তিনি প্রতিকার চান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর রমা প্রসাদ বলেন, ‘মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে রংমালার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বর্তমানে যে বাড়িতে তারা বসবাস করছেন, সেই বাড়ির দলিল, নামজারি ও বিদ্যুৎ সংযোগ সাজেদা আক্তারের নামেই রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাড়িটি কেনার সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা সহযোগিতা করেছেন।
রংমালা আরও বলেন, ‘সাজেদার পাঠানো অর্থসংক্রান্ত দাবি-দাওয়া এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলে আমি বাড়ি ছেড়ে দিতে রাজি আছি।’
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




