ছবি:সংগৃহীত
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল মঙ্গলবার। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর নাম রয়েছে। এমনকি তাঁর সফরসূচিতেও শুরুতে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবর্তন করা হয়েছে সেই সফরসূচি। সংশোধিত সূচিতে সিলেটে এলেও সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের একাধিক সূত্রের দাবি, অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি-এমন অসন্তোষ থেকেই তাঁর অনুষ্ঠানে না থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আরিফুল হক চৌধুরী নিজে এ ধরনের কোনো কারণের কথা অস্বীকার করেছেন।
একটি গনমাধ্যমকে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় তাঁর একটি জরুরি কর্মসূচি রয়েছে। সেটি শেষ করে সিলেটে আসবেন তিনি। এরপর সুনামগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসনবিষয়ক একটি জরুরি মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। দূরের জেলা সুনামগঞ্জে যেতে হবে বলেই সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
সিউকের আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কর্তৃপক্ষটির কার্যক্রম ও কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের। উদ্বোধকের বক্তব্য দেবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণপত্রে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাম রয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
এ ছাড়া আমন্ত্রণপত্রে নাম না থাকলেও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রোববার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর একান্ত সচিব বিজন কুমার সিংহের সই করা একটি সফরসূচি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। ওই সূচিতে মঙ্গলবার সিউকের কার্যক্রম ও কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
এর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৫ মিনিটে সংশোধিত সফরসূচি পাঠানো হয়। নতুন সূচিতে সিলেটে সফরের অন্যান্য কর্মসূচি থাকলেও সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।
আরিফুল হক চৌধুরীর অনুষ্ঠানে না থাকার বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্বের বিষয়টি।
স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্রের দাবি, প্রকাশ্যে বিভেদ দেখা না গেলেও সিলেট বিএনপিতে দুই নেতাকে ঘিরে পৃথক বলয় রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাববলয় নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই পক্ষের তৎপরতা বাড়ে। বিএনপি সরকার গঠনের পর দুজনই সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ায় এই দূরত্ব আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির।
সূত্রটি আরও জানায়, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন সাবেক সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত ওই আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আরিফুল হককে দেওয়া হয় সিলেট-৪ আসনের মনোনয়ন। দুজনই নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
তবে এসব রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে সিউকের অনুষ্ঠানে নিজের অনুপস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
ঐ গনমাধ্যমকে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আরিফুল হক চৌধুরীকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েই প্রটোকল অনুযায়ী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ওনাকে দাওয়াত দিয়েছি। সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি কল করে অনুষ্ঠানে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। ওনার সফরসূচিতেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ছিল। আমি তো এখনো জানি, তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।’
তবে সফরসূচির পরিবর্তন এবং অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর অনুপস্থিতির বিষয়টি ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: প্রথম আলো
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




