সংগৃহীত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত আটজনের সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে।টেকনাফের হ্নীলা এলাকার স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিদের অনেকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে পাকিস্থান এবং সেখান থেকে সৌদি আরবে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সপরিবারে সৌদিতে বসবাস করে আসছিলেন। নিহতরা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ার কারণে বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিজনরা পরিচয় নিশ্চিত করতেও চাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য চেষ্টা করা হলেও কেউ কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। এছাড়া নিহতদের পারিবারিক কোন তথ্যও জানাতে পারেনি চকরিয়া উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, সৌদি আরবে নিহতদের বাড়ি চকরিয়ায় জানার পর থেকে স্থানীয়ভাবে অনেক খোঁজ-খবর নিয়েছি। স্থানীয় কেউ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা দুতাবাস থেকে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলায়ার বলেন, সৌদি আরবে আট বাংলাদেশী নিহতের খবর পেয়েছি। কিন্তু তারা চকরিয়ার বাসিন্দা কি না এখনও এ তথ্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার রাতে মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার দুপুরে জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
সৌদি আরবের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাত দুইটার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনটি পরিবারের ১৩ জন সদস্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাওয়ার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রথমে সাতজনের মৃত্যু হয় এবং ছয়জন আহত হন। পরবর্তীতে গতকাল রাতে মদিনা অঞ্চলের আল-হিমনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়।দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন, আল আবীর কোল্ড স্টোরের স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তার দুই ছেলে ইয়াছের ও ইয়াজের এবং দুই মেয়ে বুশরাহ ও ইশরাহ। ওই প্রতিষ্ঠানের ফর্কলিফট চালক মোহাম্মদ ইলিয়াসের স্ত্রী মুন্নী। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছেন সানজিদা আক্তার ও তার দুই মাস বয়সী কন্যা সন্তান।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




