ছবি:সংগৃহীত
গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের হাদারপার-দমদমা সড়কে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এ পর্যন্ত সড়কের পাশ থেকে প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। একের পর এক গাছ কেটে নেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দমদমা লালার বাড়ি এলাকায় সদ্য কেটে ফেলা একটি মেহগনি গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে। গাছের ডালপালা সড়কের পাশের খালে পড়ে থাকলেও গাছের মাঝের অংশটি সেখানে নেই। এছাড়া ভিতরগুল থেকে দমদমা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য গাছ কেটে নেওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। কোথাও গাছের গুঁড়ি থাকলেও কেটে নেওয়া হয়েছে এর বাকি অংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে একটি চক্র রাতের আঁধারে সড়কের দুই পাশের মেহগনি, বেলজিয়াম, রেইনট্রি ও কড়ইসহ বড় বড় গাছ চিহ্নিত করে কেটে নিচ্ছে। বাধা দিতে গেলে স্থানীয়দের মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অনেকে মাদকসেবী। নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা গাছ কেটে একটি চক্রের কাছে কম দামে বিক্রি করছে বলে তাদের দাবি।
সাদাপাথর থেকে বিছনাকান্দিতে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটক বলেন, সড়কের পাশের গাছ কেটে নেওয়ায় এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদও বেহাত হচ্ছে। গাছ কাটা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে গাছ কাটার খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পান। সে সময় তারা কাটা ১৮টি গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করেন। অনেক গাছের গুঁড়ি তুলে নেওয়ার পর ওই স্থান মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা। তবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবারও গাছ কাটা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, বন বিভাগের দায়িত্বশীলদের নজরদারির ঘাটতির সুযোগেই চক্রটি সরকারি গাছ কাটার সাহস পাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, কয়েক মাস ধরে হাদারপার-দমদমা সড়কের ভিতরগুল ও দমদমা এলাকায় গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ১৮টি কাটা গাছের গুঁড়িও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে। আবারও গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, কয়েক মাস ধরে রাতের আঁধারে সড়কের গাছ কাটার বিষয়টি অবগত হয়ে বন বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আবারও গাছ কাটার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




