স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে ন্যায়বি/চারের অপেক্ষায় স্বজনরা
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ PM

সিলেটের ট্রিপল মা/র্ডার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে ন্যায়বি/চারের অপেক্ষায় স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২/০৯/২০২৬ ০৬:০১:৫৬ PM

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে ন্যায়বি/চারের অপেক্ষায় স্বজনরা

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটের রায়নগরে একই পরিবারের দুই সদস্য ও এক গৃহকর্মী হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয়বারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত দম্পতির সন্তানরা। তাদের একটাই দাবি-হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহানগরের জল্লারপার এলাকার খান হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই-এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার।’ এর আগে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলেও জানান।

নিহত দম্পতির সন্তানরা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ আশ্বাসের পর তারা এখন সঠিক বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

তারা বলেন, এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় সিলেটের সাংবাদিক, সর্বস্তরের মানুষ এবং সিলেটের মন্ত্রী-এমপিদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। হত্যাকাণ্ডের পর ন্যায়বিচারের দাবিতে সিলেটবাসীর সহযোগিতা ও সহমর্মিতা তাদের সাহস জুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিহত দম্পতির মেয়েরা বলেন, এজাহারে তারা নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। তবে তাদের বাবার জায়গা নিয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি পুলিশের নজরে এনেছেন। ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দায়িত্ব পুলিশের বলে জানান তারা।

তারা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি তারা সুষ্ঠু বিচার না পান, তাহলে পরবর্তী সময়ে আবারও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেটবাসীকে তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এম এ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের দিনই পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর, ১৭ আগস্ট নিহত দম্পতির প্রবাসী ছেলে-মেয়েরা নিজেদের বাসায় প্রথমবার সংবাদ সম্মেলন করেন। তখন তারা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।

দ্বিতীয় দফার সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের কথা তুলে ধরে নিহতদের সন্তানরা জানান, তারা এখন তদন্তের অগ্রগতি ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ