ছবি : ফাইল ফটো
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করার জন্য পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়ার সরকার।
স্থানীয় বেশ কয়েকটি পত্রিকা সহ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লক এক প্রেস কনফারেন্সে এই ঘোষণা দিয়েছেন। ফ্লাইটটি ২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বড় বিমান দুর্ঘটনার রহস্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
দেশটির মন্ত্রী অ্যান্থনি আরো বলেন, "আমাদের দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুতি হলো নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি। আমরা আশা করি এবার আমরা ইতিবাচক ফলাফল পাব এবং ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়ে পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিতে পারব।"
ফ্লাইট এমএইচ৩৭০, একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান, ২২৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু নিয়ে যাত্রা করেছিল। এর শেষ যোগাযোগ হয়েছিলো উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর, যখন এটি ভিয়েতনামের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর পরপরই এর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। সামরিক রাডার দেখায়, বিমানটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে উত্তর মালয়েশিয়ার উপর দিয়ে আন্দামান সাগরের দিকে চলে যায় এবং পরে দক্ষিণ দিকে মোড় নেয়।
দীর্ঘ সময় পর আফ্রিকার উপকূল ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও অনুমান করা হয় যে, এটি মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০-এর অংশ।
এবার নতুন করে অনুসন্ধানের প্রস্তাব দিয়েছে এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি ‘ওশিয়ান ইনফিনিটি’। ২০১৮ সালে তারা সর্বশেষ অনুসন্ধান পরিচালনা করেছিল। এবার তারা দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের একটি নতুন এলাকায় ১৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুসন্ধান করবে। চুক্তি অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে যদি উল্লেখযোগ্য ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, তবে কোম্পানিটি ৭০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার পাবে।
যাত্রীদের স্বজনরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অনুসন্ধান শুরু হতে দেরি হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। জিয়াং হুই, যার মা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০-এর যাত্রী ছিলেন, তিনি জানিয়েছেন, "মালয়েশিয়ার সরকার আরও সহজ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে, যেমন একটি পাবলিক পুরস্কার ব্যবস্থা করলে যে কেউ অনুসন্ধানে অংশ নিতে পারে।"
উল্লেখ্য, ফ্লাইটটিতে ১৫০ জনের বেশি চীনা নাগরিক ছিলেন। এছাড়া মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং কানাডাসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও ছিলেন।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




