ট্রাম্পের তাড়াহুড়োয় অ*স্থির ইউরোপ
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৮ PM

ট্রাম্পের তাড়াহুড়োয় অ*স্থির ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯/০২/২০২৫ ০২:০১:২০ AM

ট্রাম্পের তাড়াহুড়োয় অ*স্থির ইউরোপ


ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার এই প্রচেষ্টা ইউরোপকে একটি গুরুতর বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংঘাত বন্ধে তার এমন তাড়াহুড়োয় সংশয়ে ভুগছে ইউক্রেন ও ইউরোপ। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প আসলে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক সাফল্য চাইছেন। তবে এভাবে যুদ্ধের ন্যায়সংগত সমাপ্তি সম্ভব হবে না। কারণ এটি ইউক্রেনের অস্তিত্ব এবং ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে, যেখানে তিনি সৌদি আরবে মার্কিন-রাশিয়া আলোচনায় ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে বাদ দিয়েছেন। যুদ্ধ শেষ করার তার এই প্রচেষ্টার ভাগ্য নির্ভর করছে কয়েকটি প্রশ্নের ওপর। তাড়াহুড়ো করে নেওয়া ট্রাম্পের পদক্ষেপ কি ইউক্রেনের অস্তিত্ব রক্ষা, ইউরোপের সীমানা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাশিয়ার অবৈধ আক্রমণকে পুরস্কৃত না করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামাল দিতে পারবে? সত্যি বলতে ট্রাম্প এই তিনটি লক্ষ্যের কোনোটিতেই স্পষ্টভাবে আগ্রহ দেখাননি। যা তার কৌশলকে একটি জুয়ায় পরিণত করেছে। যুদ্ধ থামানোর এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি পক্ষের গুরুতর উদ্বেগ এবং উল্লেখযোগ্য লিভারেজ রয়েছে। সেগুলো এটাই ব্যাখ্যা করে কেন- যুদ্ধ শেষ করা ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি থেকে কঠিন হবে, যেখানে তিনি ২৪ ঘণ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।

আসলে ট্রাম্প একটি চুক্তি চান- সম্ভবত যেকোনো চুক্তি। তিনি মনে করেন এই যুদ্ধ আসলে একটি বিরক্তিকর বিষয়। তিনি মূলত পুতিনের সঙ্গে বসে কথা বলতে চান, যাকে তিনি বিশ্বের শক্তিশালী নেতা হিসেবে পছন্দ করেন। তার এই তাড়াহুড়ো এবং পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারে। ট্রাম্প কেবল একটি বাস্তবতা উচ্চারণ করছেন যা অনেক মার্কিন এবং ইউরোপীয় কর্মকর্তা বেশ কিছু মাস ধরে গোপনে বলে আসছেন- ইউক্রেন আর যুদ্ধ জিততে পারবে না এবং তার দখল হওয়া সব এলাকা থেকে রাশিয়াকে আর বের করতে পারবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি যত দ্রুতই করা হোক না কেন, এটি যদি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশল অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কিত হয়েছে। তিনি একদিকে রাশিয়ার প্রধান কিছু দাবির প্রতি নমনীয়তা দেখিয়েছেন, অন্যদিকে ইউক্রেনকে সহায়তা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদের অর্ধেক দাবি করে একটি বিতর্কিত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, যা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এ ছাড়া, ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব তার কৌশলগত ভুলগুলোর একটি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে কিছু অযৌক্তিক পরিকল্পনা করেছেন, যেমন গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে সেখানে বিলাসবহুল সৈকত রিসোর্ট তৈরি করার প্রস্তাব। প্রতিটি ভূ-রাজনৈতিক সংকটকে একটি রিয়েল এস্টেট ডিল হিসেবে দেখেন ট্রাম্প। তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝায় যে, তিনি এমন একটি চুক্তি গ্রহণ করতে পারেন যা কেবল হত্যাকাণ্ড থামাতে পুতিনকে তার দখল করা সব জমি রাখতে দেবে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিন শান্তি চান। তবে বাস্তবে, রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। পুতিন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যা রাশিয়ার জন্য সুবিধাজনক। তাছাড়া, ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুতিনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুনরায় গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন, যা রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

যখন ট্রাম্প রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দ্রুত একটি চুক্তি করতে চান, তখন ইউক্রেন একটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউক্রেন তার সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করবে না এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আলোচনায় তার দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপকে রক্ষা করতে গিয়ে রাশিয়াকে তুষ্ট করার চেষ্টা আত্মহত্যার নামান্তর হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের ‘ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি’ দরকার, যা রুশরা কয়েক বছরের মধ্যে ভঙ্গ করতে পারবে না।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে সমর্থন না দেয়, তবে ইউক্রেনকে ইউরোপের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা সীমিত, যা ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। ট্রাম্পের পরামর্শক ব্রায়ান লাঞ্জা ইঙ্গিত দিয়েছেন- ইউক্রেনকে আর সামরিক সহায়তা না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ভূখণ্ড ফেরত পাওয়ার লড়াই নয়; ইউক্রেনকে এখন শান্তির ওপর নজর দিতে হবে।

আবার ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইউরোপীয় নেতাদের জন্যও অপ্রত্যাশিত ছিল। ইউক্রেন সংকটের সমাধানে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের উপেক্ষা করে সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন- যুক্তরাজ্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রয়োজন, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইউরোপীয় দেশগুলোও সামরিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ইউরোপের সামরিক শক্তি বর্তমানে দুর্বল এবং এটি বাড়াতে হলে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তির প্রধান সমস্যা হলো- ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ব্যাপারে আপস করা হতে পারে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করবে। ইউক্রেনকে ন্যাটো থেকে দূরে রাখা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে তার নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দেবে। রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নতুন কৌশল নিতে পারে, যদি তারা মনে করে যে ভবিষ্যতে আরও বড় সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে, যুদ্ধের মাধ্যমে একটি দেশ দখল করার পর সেটিকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয় না, যদি না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা যদি শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হয়, তবে এটি ইউক্রেন এবং ইউরোপের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। ইউক্রেনের স্বাধীনতা, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার ভবিষ্যৎ ভূমিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে শান্তি আলোচনা পরিচালিত হওয়া উচিত বলেই অভিমত কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের। যদি একটি তাড়াহুড়োর চুক্তি হয়, তবে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি না এনে বরং ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের জন্ম দেবে। তাই ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুষম চুক্তি করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর পক্ষে ইউরোপীয় শক্তিগুলো।

জৈন্তা বার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ
নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিতে হবে- সিসিক প্রশাসক
১৭ দিন অফিসে অনুপস্থিত যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা, সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে মানুষ
মন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট
গরমে পু'ড়ছে সিলেট, মিলেছে বৃষ্টির বার্তা
ধ্বং/সের দ্বারপ্রান্তে শতবর্ষী ঐতিহ্য জলসুখার গিরিষ বাবুর বাড়ি
২২৯ শিক্ষার্থীর জন্য ২ জন শিক্ষক, ব্যা/হত পাঠদান
পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও বন্ধ হয়নি নি/র্যাত/ন, মুন্নীকে হ/ত্যার অভি/যোগ
আম্বরখানায় পার্কিং দ/খল করে দোকান, সিসিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বাহুবলে প্র'তিপক্ষের হা'মলায় খামারি নি'হত