আম্বরখানায় পার্কিং দ/খল করে দোকান, সিসিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ PM

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অ/ভিযোগ

আম্বরখানায় পার্কিং দ/খল করে দোকান, সিসিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯/০৮/২০২৬ ০৪:৪৭:৫৮ PM

আম্বরখানায় পার্কিং দ/খল করে দোকান, সিসিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় একটি ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে বর্ধিত অংশ নির্মাণ এবং নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার তদন্ত ও নোটিশ দেওয়ার পরও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভবনের এক অংশের মালিক রোকসানা লেইছ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভবনের অপর তিন অংশীদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে গত ১২ আগস্ট সিসিকের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোকসানা।

লিখিত বক্তব্যে রোকসানা লেইছ বলেন, আম্বরখানা পয়েন্টসংলগ্ন ওয়েভস আবাসিক এলাকার শীতলগলির মুখে মেইন রোডের পাশে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমিতে যৌথ মালিকানায় ‘আব্দুল গাফ্ফার কমপ্লেক্স’ নামে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটির অনুমোদিত নকশায় পার্কিংয়ের জন্য জায়গা রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তাঁর তিন অংশীদার ভবনের সামনের অংশে নকশাবহির্ভূত বর্ধিত নির্মাণ করেন এবং পার্কিংয়ের একটি অংশ দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেন বলে অভিযোগ তাঁর।

রোকসানার দাবি, পার্কিংয়ের রাস্তার মুখে দোকান নির্মাণ করায় ভবনে যানবাহন প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ওই দোকানটি মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি ইলেকট্রনিকসের ব্যবসা করছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা বলেন, ২০২৩ সাল থেকে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিং দখলের বিষয়ে তিনি সিসিকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এসব অভিযোগের পর গত তিন বছরে সিসিক অন্তত আটবার সরেজমিন তদন্ত এবং ছয়বার মালিকপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই সিসিকের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে সাত দিনের মধ্যে নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পুনরায় আবেদন করা হয়। ২০২৫ সালেও মালিকপক্ষকে দুটি চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন রোকসানা। তবে এসবের পরও বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

রোকসানা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাঁর আবেদনের নথি হারিয়ে যায় এবং পরে সংশ্লিষ্ট ফাইল থেকে কিছু কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর স্বামী গত তিন বছরে দুই শতাধিকবার সিটি করপোরেশনে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আবেদনের পর গত ১২ আগস্ট সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কোনো নির্মাণ অপসারণ কিংবা দোকান উচ্ছেদ না করেই অভিযানকারী দল ফিরে যায়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, অংশীদারদের মধ্যে পারিবারিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোকসানার প্রশ্ন, মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনের ব্যবহার নিশ্চিত করা, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ অপসারণ এবং পার্কিং দখলমুক্ত করার বিষয়টি সিসিকের এখতিয়ারভুক্ত। এ ক্ষেত্রে তিন বছর ধরে তদন্ত ও একাধিক নোটিশ দেওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা লেইছ বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ অপসারণ এবং পার্কিংয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে সিসিক প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ