ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবক ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা পায়নি বলে জানিয়েছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ও হতাশা প্রকাশ করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বিজয়পাড়ুয়া গ্রামে ওই গৃহবধূকে একা পেয়ে প্রতিবেশী এমরান (২৪) ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন একই গ্রামের রাসেল (২৮) ও বাদল মিয়া (৩০)।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ওই সময় গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণচেষ্টার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী পরস্পরের আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে অন্য একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে না।
ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই লায়েক বলেন, ঘটনার দিন গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তারা একজন রোগীকে নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। এ সুযোগে এমরান তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লায়েক বলেন, “আমাদের বোনের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে বলেই আমরা অভিযোগ করেছি। কিন্তু ওসি সাহেব এখন বলছেন ঘটনা নাকি ভিন্ন। আমরা এখন কার কাছে বিচার চাইব?”
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগটির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




