ছবি : সংগৃহীত
বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে দেখা করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৩ নভেম্বর) ঐতিহ্যবাহী ওভাল অফিসে এই দুই নেতা একত্রিত হন এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা করেন। উভয় নেতা মার্কিন রাজনৈতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী একে অপরকে স্বাগত জানান, যেখানে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক সম্পর্কের প্রমাণ দেখা যায়।
বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প এবং বাইডেন উভয়েই জানান, কঠিন নির্বাচনী প্রচারণার পর ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর সম্ভব হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমরা এটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কাজ করব।
এটি ছিল ট্রাম্পের বাইডেনের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যেটি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত সপ্তাহের নির্বাচনে বাইডেনের জয়ী হওয়ার পর। বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান বিমানে করে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্য অনুযায়ী, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নতুন প্রেসিডেন্টের আগমনকে স্বাগত জানান এবং ট্রাম্পও এবার সেটি পালন করেন, যেটা ২০২০ সালে বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় ট্রাম্প করেননি।
বাইডেন এবং ট্রাম্প দুই নেতা হিসেবে দীর্ঘ বছর ধরে একে অপরকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। বাইডেন ট্রাম্পকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করেছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প বাইডেনকে অযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। এই বছরের জুনে নির্বাচনী বিতর্কের পর এটিই তাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। তবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কারিন জিন-পিয়েরে জানিয়েছেন, এই বৈঠকে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর মার্কিন গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, পরবর্তী প্রশাসনেও এই ঐতিহ্য বজায় থাকবে।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের আচরণ ছিল ঐতিহ্যবাহী। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র নির্বাচনী লড়াইয়ের পর, বাইডেন তার রাজনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শন করেন এবং ট্রাম্পকে স্বাগত জানান। ২০২০ সালের নির্বাচনে এই ধরনের সৌজন্য মেনে চলতে ট্রাম্প রাজি হননি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা ছিল।
বাইডেন এবং ট্রাম্পের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য অনেক ক্ষেত্রেই গভীর। জলবায়ু পরিবর্তন, রাশিয়া এবং বাণিজ্য নীতিতে তাদের মতামত একেবারেই আলাদা। তবে, বাইডেন এবং ট্রাম্প উভয়েই এখন বিশ্বাস করছেন যে, মার্কিন গণতন্ত্রের ভিত্তি হল শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




