প্রতিকী ছবি, এআই দিয়ে করা
চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, ন্যায্য ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং চা শ্রমিক নেতা গীতা রানী কানুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজী পাশি ও সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আবু জাফর, উজ্জ্বল রায়, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, প্রণব জ্যোতি পাল ও শফিকুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি ও দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে চা শ্রমিক নেতা গীতা রানী কানুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গীতা রানী কানুর নিঃশর্ত মুক্তি এবং চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ ৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইনের ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। তাদের দাবি, চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড ২০২১ সালের জুনে খসড়া সুপারিশ প্রকাশ করলেও তা চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট।
ফেডারেশনের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গেজেটের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট শেষ হয়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের যে সময়সীমা রয়েছে, সেটিও এরই মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
চা শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে চায়ের সিন্ডিকেটেড নিলামমূল্যের পরিবর্তে চায়ের প্রকৃত বাজারমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২২ মে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮০০ টাকা, বিভাগীয় শহরে ৭৫০ টাকা এবং জেলা ও উপজেলায় ৭০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের বাস্তবতায় চা শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম দৈনিক নগদ মজুরি কমপক্ষে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং চা শ্রমিক নেতা গীতা রানী কানুর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
অন্যথায় চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




